Open Media 24
জাতীয়

গণমাধ্যম এখন ‘কোন গণমানুষের’ কথা বলতে চায় ?

 

তারেক রহমানের দেশে ফেরার ইভেন্ট কাভার করা ও লাইভ করার প্রতিযোগিতা চলছে। যদি মনে করেন যে, ১৭ বছর নির্বাসিত রাজনৈতিক নেতার দেশে ফেরাকে তাৎপর্যপূর্ণ, তাহলে দয়াকরে কিছু ফ‌্যাক্ট চেক প্রতিবেদন করুন। বিশেষ করে ১০ বছর, ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি থেকে তারেক রহমান মিডিয়ায় বৈষম্যের শিকার হন। যদিও তখনকার সরকার ও আদালতের নির্দেশে।

কিন্তু রাজনৈতিক ইস্যুতে আদালত কী কী করেছে, তা তো গণমাধ্যমই ভালো জানে।

আগের কথা বাদই দিলাম। চব্বিশের ৫ আগস্টের পরও তারেক রহমানের বহু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু এড়িয়ে গিয়েছে বেশীরভাগ গণমাধ্যম। তারেক রহমান নিজে বলেছেন যে, “আমি এই প্রথম আমার জায়গা থেকে একটি বিষয় আপনাদের সামনে আজ বলতে চাই। যা এর আগে আমার জায়গা থেকে আপনাদের বলিনি। আমি এবং আমার ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকো, যেই ভাইটিকে আমরা হারিয়েছি, বর্তমান আয়না ঘর নামে পরিচিত বন্দীশালায়, আমাদের দুজনকে যেই রুমে রাখা হয়েছিল, সেই একই রুমে হুম্মাম কাদের চৌধুরীকেও বন্দি রাখা হয়।”

তারেক রহমান সেদিন আরো বলছিলেন, “হুম্মাম কাদের চৌধুরী সম্প্রতি আমার সাথে দেখা করতে এসে কথা প্রসঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা হচ্ছিল। অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা (ডক্টর মুহম্মদ ইউনূস) সেই জায়গা পরিদর্শন করেন, হুম্মামসহ অন্যরা সেখানে ছিলেন” (১৭ মার্চ ২০২৫- mhglive)।

আমাদের ১/২ টি মিডিয়া বাদে অন্যরা এই ইস্যুটি ধামাচাপা দিয়ে গেছেন। এমন করো বহু বড় বড় ইস্যু, যা তারেক রহমানের জন্য হয়তো ইতিবাচক হয়, সেই ধরণের বক্তব্য এবং খবর ছড়িয়ে গেছে বেশিরভাগ মিডিয়া। এছাড়া চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান তারেক রহমানের ভূমিকা নিয়ে কোন নিউজ পাবেন না। হ্যাঁ, তখন না হয় নিষিদ্ধ ছিল, কিন্তু প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সব মিডিয়া তো বহু নিউজ ও অনুষ্ঠান প্রচার ও প্রকাশ করেছে। দেখবেন তো কোন মিডিয়ায় তারেক রহমানের বক্তব্য দেয়ার একটি ছবি বা একটি বক্তব্যের লাইন উল্লেখ আছে কিনা!

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসে ৫ আগস্ট দুই দফাসহ মোট ৯টি বক্তব্য দিয়েছেন তারেক রহমান। ৫ আগস্টের প্রথম বক্তব্য বেশিরভাগ মিডিয়া নিউজ করেছিল। কিন্তু সেই সময় আরো ৭ দিন তারেক রহমান আন্দোলনে দিকনির্দেশনা মূলক বক্তব্য দেন।

তারেক রহমানের সেই বক্তব্য শুনে শেখ হাসিনা নিজে জাহাঙ্গীর কবির নানককে আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিয়ে টেলিফোন করেছিলেন। সেই ফোনালাপ ফাঁস হয় পরবর্তীতে। আর ২২ জুলাই তো আনুষ্ঠানিক ভাবে তারেক রহমানের নাম উল্লেখ করে বক্তব্য দেন এবং কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দেন শেখ হাসিনা।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে বা কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে শেখ হাসিনার পতন আন্দোলনে তারেক রহমানের ভূমিকা নিয়ে গণমাধ্যমে কোন নিউজ পাবেন না বা নেই বললেই চলে! এটা কি বিচ্ছিন্ন ঘটনা মনে হচ্ছে? না, কোন ভাবেই না।

এখন তারেক রহমানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বেশ কিছু গণমাধ্যম সংঘবদ্ধ অ’প’প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। একইভাবে বিএনপির বিরুদ্ধেও। এগুলোর বিষয়ে ফ্যাক্ট চেক প্রতিবেদন প্রকাশ ও প্রচার করার সুযোগ ও দায়িত্ব আমাদের। আমাদের মানে গণমাধ্যমের।

১//১১ সরকারের সময় অন্যান্য রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তারেক রহমানকে বিশেষ ভাবে টার্গেট করে অ’প’প্রচার চালানো হয়। তখন গোয়েন্দা সংস্থার চাপিয়ে দেয়া মিথ্যা ও ভিত্তিহীন নিউজ প্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছিল পত্রিকাগুলো। সেই ভুয়া খবরের পত্রিকার কাটিং, সাথে আজগুবি কিছু শিরোনাম এডিট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। এই অ’প’প্রচার ক্যাম্পেইনে লাখ লাখ ডলার খরচ করা হচ্ছে। গভীর রাতে বুস্ট করে কৃত্রিমভাবে ফেসবুক ইউটিউব ব্যবহারকারীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।

আবার অ’প’প্রচার চালানো হচ্ছে যে, ২০০৮ সালে তারেক রহমান নাকি দেশ থেকে পালিয়ে গেছে!! তারেক রহমান ২০০৮ সালে তখনকার সরকার গঠিত ৪টি মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশে জীবন রক্ষার প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডন যান। সেসময় তারেক রহমানকে তো মেরেই ফেলতে চেয়েছিল। আল্লাহ তায়ালা রক্ষা করেছেন। কিন্তু এই সত্য ঘটনা আড়াল করে, মিথ্যাচার ও অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি রাজনৈতিক মহল। এর বিরুদ্ধে রিপোর্ট করার অনেক সুযোগ আছে।

আবার দেখেন, যেসব অভিযোগ শেখ হাসিনার মুখে কখনো শোনেনি, তা এখন বলছেন জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের বড় একটি অংশ। যেমন হাওয়া ভবন, খাম্বা তার অবৈধ সম্পদ ইত্যাদি। কিন্তু এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি ছিল না বলে, শেখ হাসিনা সাড়ে ১৫ বছরে তারেক রহমানের নামে এক টাকার অবৈধ সম্পদ পাননি। খাম্বা লিমিটেড ও হাওয়া ভবনের কোন অনিয়ম পাওয়া যায়নি। কিন্তু ঐ যে পত্রিকার মিথ্যা শিরোনাম এখন নতুন অ’প’প্রচারের হাতিয়ার। এসবের ফ্যাক্ট চেক প্রতিবেদন হতে পারে। আসল সত্য উদঘাটন করে যা আসবে সেটাই নিউজ করলেই তো অ’প’প্রচার বন্ধ হয়। আর সত্য হলে, সেটাই নিউজ হবে।

লেখক: মিরাজ হোসেন গাজী, বিশেষ প্রতিনিধি, বাংলাভিশন ও ফ্যাক্ট চেক অ্যাক্টিভিস্ট

 

তারেক রহমানের প্রত্যাব‍র্তন

 

Related posts

নিজের অভিজ্ঞতা প্রথমবার প্রকাশ করলেন তারেক রহমান, সেই সংবাদও ব্ল্যাক-আউট!

Meraj Hossain Gazi

মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট না মানলে ক‍র্মী পাঠানো অনিশ্চিত!

admin@opn

চার দিনের সরকারি সফরে জাপানের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Meraj Hossain Gazi

মতবিনিময়ে গণমাধ্যম কর্তারা তারেক রহমানের কাছে চাইবেন, নাকি দিবেন ?

Meraj Hossain Gazi

তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর

Meraj Hossain Gazi

ডাকসু ২০২৫: ছাত্রদলের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমের সংঘবদ্ধ অপপ্রচার ও প্রশাসনিক ষড়যন্ত্র!

Meraj Hossain Gazi