ঢাকা , রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ডাকসু ২০২৫: ছাত্রদলের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমের সংঘবদ্ধ অপপ্রচার ও প্রশাসনিক ষড়যন্ত্র! নিজের অভিজ্ঞতা প্রথমবার প্রকাশ করলেন তারেক রহমান, সেই সংবাদও ব্ল্যাক-আউট! মতবিনিময়ে গণমাধ্যম কর্তারা তারেক রহমানের কাছে চাইবেন, নাকি দিবেন ? মতবিনিময়ে গণমাধ্যম কর্তারা তারেক রহমানের কাছে চাইবেন, নাকি দিবেন ? তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে সহমর্মিতা জানিয়েছেন পাকিস্তানের স্পিকার দেশনেত্রীর শেষ বিদায়ে বিশ্ববাসী দেখলো খালেদার জনপ্রিয়তা গণমাধ্যম এখন ‘কোন গণমানুষের’ কথা বলতে চায় ? ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে বলে মনে হচ্ছে না, মালয়েশিয়ায় নাহিদ ইসলাম আগামী নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার

মতবিনিময়ে গণমাধ্যম কর্তারা তারেক রহমানের কাছে চাইবেন, নাকি দিবেন ?

ওপেন মিডিয়া
  • আপডেটের সময় : ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 195

 

দেশের গণমাধ্যমের সম্পাদক ও বার্তা প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ১০ জানুয়ারি শনিবার সকালে রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে এই মতবিনিময় হচ্ছে। মূলত সেখানে আমন্ত্রিত হিসেবে থাকবেন বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদক, টেলিভিশনের বার্তা প্রধানসহ সিনিয়র সাংবাদিকরা। মতবিনিময়ে আসলে কি ফলাফল হতে পারে অথবা এই মতবিনিময়ের উদ্দেশ্য আসলে কি?

 

বহু বছর পর সামনাসামনি হবেন তারেক রহমান ও গণমাধ্যম ক‍‍র্তারা। সম্ভবত এই মতবিনিময়ে অনেক সাংবাদিক, সম্পাদক ও প্রকাশক থাকবেন, যারা ১/১১ সরকারের সময়ও প্রভাবশালী গণমাধ্যম চালাতেন। এজন্য এই প্রশ্নের অবকাশ রয়েছে যে, মতবিনিময় হলেও এই আয়োজনে স্মৃতিচারণ কি হবে? প্রকাশ্যে না হলেও, মনের ভেতরের যুদ্ধ তো থামার কথা না, যদি বিবেকের স্বাধীনতা থাকে।

 

তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান । দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলের প্রধান নেতা। ধারণা করা হচ্ছে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী নির্বাচনের পর তারেক রহমান দেশের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন। সাধারণত দেশের রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা অথবা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাংবাদিকদের অথবা সাংবাদিকদের সঙ্গে নেতার, যেভাবেই বলা হোক এমন মতবিনিময়ে কিছু দাবি, পরামর্শ ও কিছু প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন সাংবাদিকরা বা সম্পাদকরা। কিন্তু তারেক রহমানের এই মতবিনিময়ও কি এরকম আশা করা উচিত?

 

ইতিহাসের পাতা উল্টালে, বিবেকের স্বাধীনতা থাকা গণমাধ্যম কর্তারা তারেক রহমানের সামনে সকলেই কি গিয়ে চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারবেন? কোন নাগরিক এমন প্রশ্ন করলে সেটি কি অযৌক্তিক হবে ?
২০০৭ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত তারেক রহমানের দল এবং ব্যক্তি তারেক রহমানের প্রতি বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলো যে আচরণ বা ব্যবহার করেছে তা তারেক রহমান নিশ্চয়ই ভুলে যাননি। আর যারা তারেক রহমানের আমন্ত্রণে মতবিনিময়ে উপস্থিত হবেন তাদের কি ভুলে যাওয়ার কথা?
গণমাধ্যমের কর্তাদের বক্তব্য হয়তো থাকবে যে তখনকার সরকারের বা সরকারি বিভিন্ন সংস্থার চাপে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা কাল্পনিক এবং চাপিয়ে দেওয়া একতরফা খবর প্রচার করতে হয়েছে। যদি সেটি গ্রহণযোগ্য বা সেটি বিশ্বাসযোগ্য হয় তারপরও বিগত সাড়ে ১৫ মাসে কয়টি গণমাধ্যম তারেক রহমানের সেই ইমেজ ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রেখেছে? খুজলে হয়তো উদাহরণের তালিকা শূন্য ফল নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হবে।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর পরই ২০ আগস্ট ২০২৪ ভার্চ্যুয়াল বক্তব্যে তারেক রহমান সুনির্দিষ্টভাবে গণমাধ্যমের কাছে কিছু প্রত্যাশার কথা ইল্লেখ করেছিলেন৤ তিনি বলেছিলেন, অতীতে সরকারের জুলম, নির্যাতন, লুটপাট, হত্যাণ্ড, গুম খুন নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন জনগণ দেখতে চায়৤ তারেক রহমান বলেছিলেন, এসব ফ্রেমবন্দি থাকলে ভবিষ্যতে আর কোন সরকার ফ্যাসিস্ট হতে সাহস পাবে না৤ কিন্তু কয়টি গণমাধ্যম সেই আহবানে সারা দিয়েছেন৤ সেখানে তারেক রহমান কিন্তু নিজের দল বা নিজের পরিবারের ওপর অত্যাচারের ইতিহাস তুলে ধরতে বলেননি৤
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তারেক রহমান মোট ৮ দিনে ৯ রাব দেশবাসী ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়েছেন৤ তখন হয়তো সরকারের নিষেধাজ্ঞা ছিলো৤ কিন্তু পরব‍‍র্তীতে তো গণমাধ্যমের দায়িত্ব ছিল৤ এমনকি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ব‍‍র্ষপূর্তিতে এক দুইটি বাদে গণমাধ্যমে তারেক রহমানের ভূমিকা, তারেক রহমানের বক্তব্যগুলোর একটি ফটো বা ভিডিও অংশ প‍‍র্যন্ত জাতিকে মনে করিয়ে দেয়নি৤ ফিরে দেখা জুলাই গণ অভ্যুত্থান শিরোনামে কতো নিউজ, অনুষ্ঠান হয়েছে গণমাধ্যমে কিন্তু কয়টি গণমাধ্যম নিরপেক্ষভাবে ও বিবেকের স্বাধীনতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন৤
তারেক রহমান নিজে বলছিলেন, ব‍‍র্তমানে আয়নাঘর নামে পরিচিত বন্দিশালায় ছোটভাই আরাফাত রহমান কোকোসহ ১/১১ সরকারের সময় তাঁকে ও ছোটভাইকে নির্যাতন করা হয়েছিল৤ প্রধান উপদেষ্টা সেই বন্দিশালা পরিদ‍‍র্শন করেছেন৤ তারেক রহমান নিজে এক অনুষ্ঠানে সেই হৃদয়বিদারক ঘটনা ব‍‍র্ণনা করেছেন৤ কিন্তু গণমাধ্যমে জায়গা হয়নি৤ এমন বহু ঘটনা আছে যা তারেক রহমান ও বিএনপিকে ইতিবাচকভাবে জাতির সামনে তুলে ধরতে পারতো, কিন্তু গণমাধ্যমের বেশিরভাগ সেই খবর এড়িয়ে গেছে৤
তবে সৌভাগ্য যে এমন সময় মতবিনিময় আয়োজন করা হয়েছে , তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাব‍‍র্তন ও বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গণমাধ্যমে বিএনপির খবরের ছড়াছড়ি৤ কিন্তু গণমাধ্যমগুলো কি বিএনপি বা তারেক রহমানের প্রতি ভালোবাসা থেকে এখন এই কাভারেজ দিচ্ছে? নিশ্চয়ই না৤ কারণ এতো মানুষের উপস্থিতি বা অংশগহণের খবর এমনিতেই দেখাতে হবে৤ নয়তো সেই গণমাধ্যম পাঠক ও দ‍‍র্শক হারাবে৤ বানিজ্যিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে৤ যদি ভালোবাসা থেকে কাভারেজ দিতো, তাহলে অতীতের লাগাতার মিথ্যাচার, অপপ্রচার চলেছে, সেগুলোর আসল ঘটনা উদঘাটন করে অনুসন্ধানী প্রতিবেদ করার সুযোগ ছিল বা আছে৤ কিন্তু কয়টি গণমাধ্যম সেই সত্যটা সামনে তুলে ধরার জন্য চেষ্টা করছে?
উদ্বেগজনক হলো, ৫ আগস্ট পরব‍‍র্তীতে বিএনপির বিরুদ্ধে বহু সংবাদ প্রচার ও প্রকাশ করা হয়েছে, যেগুলো সংগবদ্ধ অপপ্রচার হিসেবে৤ একসাথে বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে একই ধরণের শিরোনাম ও সংবাদ প্রচার প্রকাশ করা হয়েছে৤
অনেক সংবাদ গণমাধ্যমে এসেছে, যেগুলো ভিন্ন ঘটনা হলেও বিএনপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে প্রচার ও প্রকাশ করা হয়েছে৤ আবার দেশের পক্ষে শক্ত অবস্থান নেয়ার ক্ষেত্রেও গণমাধ্যমের ভূমিকা রহস্যজনক দেখা গেছে৤ ৫ আগস্ট পরব‍‍র্তীতে সংখ্যালঘু ইস্যুতে ভারতের মিডিয়ার অপপ্রচার এবং দেশের ভিতরে পরিকল্পিত কিছু মিথ্যা ঘটনা সত্য বলে প্রচার করেছে বিদেশি মিডিয়া৤ দেশে সেই ঘটনাগুলো ইস্যু করে রাজপথে, রাজধানীতে লাগাতার আন্দোলন হয়েছে৤ সেই আন্দোলনকারীদের বক্তব্য এক তরফা প্রচার করেছে বেশিরভাগ গণমাধ্যম৤ ক্রস চেক করা, অনুসন্ধান করে আসল ঘটনা উদঘাটন করে সরেজমিন প্রতিবেদন না করে শুধুমাত্র বিক্ষোভকারীদের ব্ক্ত গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তখন আরো জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়েছে অন্তব‍‍র্তীকালীন সরকারকে।
তারেক রহমানের সাথে মতবিনিময়ে যদি সব সম্পাদক উপস্থিত থাকেন, তাহলে ২০০৭ সালের আগে ও পরে বিএনপি ও তারেক রহমানকে নিয়ে যে ধরণের মিথ্যা খবর পত্রিকাগুলোতে ছাপানো হয়েছে, সেজন্য আজকে কি তারাঁ দু:খ প্রকাশ করবেন? ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম ২০১৬ সালে এটিএন নিউজের টকশোতে ভুল স্বীকার করেছিলেন। বলেছিলেন, “একমাত্র নুরুল কবিরের নিউএজ পত্রিকা ছাড়া সবাই সেই সময় মিথ্যা খবর ছাপিয়েছে। তখন ডিজিএফআইয়ের দেয়া নিউজ যাচাই বাছাই ছাড়া ছাপানো আমার ভুল হয়েছে। আমি অকোপটে স্বীকার করছি যে, আমি ভুল করেছি।”
অন্য সকলে কি মাহফুজ আনামের মতো ভুল স্বীকার করেছিলেন? আজকে কি করবেন? ভুল স্বীকার করলে হয়তো মহত্বের পরিচয় দেয়া হয়, শুনে এসেছি৤ কিন্তু আপনাদের সেই ভুলের কারণে শুধু তারেক রহমানকে নয়, বিএনপিকে শুধু নয়, এই বাংলাদেশকে খেসারত দিতে হচ্ছে আজও।
বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য পরিবেশন বা মিথ্যা খবর এখনো হচ্ছে বহু গণমাধ্যমে। তবে আগের চেয়ে এখনকার মিথ্যা খবরের ধরণ আরো উদ্বেগজনক! বহু গণমাধ্যম সংঘবদ্ধভাবে এই অপপ্রচার নীতি বাস্তবায়ন করছে নয়া কৌশলে। তাহলে এখনকার এই ইচ্ছাকৃত ভুলের জন্য ক‍‍র্তাদের ভুল স্বীকারের বাক্য শুনতে হলে, কতো বছর অপেক্ষা করতে হবে? কবে সকলের বিবেক স্বাধীন হবে?
লেখক: মিরাজ হোসেন গাজী, টেলিভিশন সাংবাদিক ও ফ্যাক্টচেক অ্যাক্টিভিস্ট৤
ghmeraj@yahoo.com

শেয়ার করুন

মতবিনিময়ে গণমাধ্যম কর্তারা তারেক রহমানের কাছে চাইবেন, নাকি দিবেন ?

আপডেটের সময় : ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

 

দেশের গণমাধ্যমের সম্পাদক ও বার্তা প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ১০ জানুয়ারি শনিবার সকালে রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে এই মতবিনিময় হচ্ছে। মূলত সেখানে আমন্ত্রিত হিসেবে থাকবেন বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদক, টেলিভিশনের বার্তা প্রধানসহ সিনিয়র সাংবাদিকরা। মতবিনিময়ে আসলে কি ফলাফল হতে পারে অথবা এই মতবিনিময়ের উদ্দেশ্য আসলে কি?

 

বহু বছর পর সামনাসামনি হবেন তারেক রহমান ও গণমাধ্যম ক‍‍র্তারা। সম্ভবত এই মতবিনিময়ে অনেক সাংবাদিক, সম্পাদক ও প্রকাশক থাকবেন, যারা ১/১১ সরকারের সময়ও প্রভাবশালী গণমাধ্যম চালাতেন। এজন্য এই প্রশ্নের অবকাশ রয়েছে যে, মতবিনিময় হলেও এই আয়োজনে স্মৃতিচারণ কি হবে? প্রকাশ্যে না হলেও, মনের ভেতরের যুদ্ধ তো থামার কথা না, যদি বিবেকের স্বাধীনতা থাকে।

 

তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান । দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলের প্রধান নেতা। ধারণা করা হচ্ছে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী নির্বাচনের পর তারেক রহমান দেশের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন। সাধারণত দেশের রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা অথবা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাংবাদিকদের অথবা সাংবাদিকদের সঙ্গে নেতার, যেভাবেই বলা হোক এমন মতবিনিময়ে কিছু দাবি, পরামর্শ ও কিছু প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন সাংবাদিকরা বা সম্পাদকরা। কিন্তু তারেক রহমানের এই মতবিনিময়ও কি এরকম আশা করা উচিত?

 

ইতিহাসের পাতা উল্টালে, বিবেকের স্বাধীনতা থাকা গণমাধ্যম কর্তারা তারেক রহমানের সামনে সকলেই কি গিয়ে চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারবেন? কোন নাগরিক এমন প্রশ্ন করলে সেটি কি অযৌক্তিক হবে ?
২০০৭ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত তারেক রহমানের দল এবং ব্যক্তি তারেক রহমানের প্রতি বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলো যে আচরণ বা ব্যবহার করেছে তা তারেক রহমান নিশ্চয়ই ভুলে যাননি। আর যারা তারেক রহমানের আমন্ত্রণে মতবিনিময়ে উপস্থিত হবেন তাদের কি ভুলে যাওয়ার কথা?
গণমাধ্যমের কর্তাদের বক্তব্য হয়তো থাকবে যে তখনকার সরকারের বা সরকারি বিভিন্ন সংস্থার চাপে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা কাল্পনিক এবং চাপিয়ে দেওয়া একতরফা খবর প্রচার করতে হয়েছে। যদি সেটি গ্রহণযোগ্য বা সেটি বিশ্বাসযোগ্য হয় তারপরও বিগত সাড়ে ১৫ মাসে কয়টি গণমাধ্যম তারেক রহমানের সেই ইমেজ ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রেখেছে? খুজলে হয়তো উদাহরণের তালিকা শূন্য ফল নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হবে।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর পরই ২০ আগস্ট ২০২৪ ভার্চ্যুয়াল বক্তব্যে তারেক রহমান সুনির্দিষ্টভাবে গণমাধ্যমের কাছে কিছু প্রত্যাশার কথা ইল্লেখ করেছিলেন৤ তিনি বলেছিলেন, অতীতে সরকারের জুলম, নির্যাতন, লুটপাট, হত্যাণ্ড, গুম খুন নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন জনগণ দেখতে চায়৤ তারেক রহমান বলেছিলেন, এসব ফ্রেমবন্দি থাকলে ভবিষ্যতে আর কোন সরকার ফ্যাসিস্ট হতে সাহস পাবে না৤ কিন্তু কয়টি গণমাধ্যম সেই আহবানে সারা দিয়েছেন৤ সেখানে তারেক রহমান কিন্তু নিজের দল বা নিজের পরিবারের ওপর অত্যাচারের ইতিহাস তুলে ধরতে বলেননি৤
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তারেক রহমান মোট ৮ দিনে ৯ রাব দেশবাসী ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়েছেন৤ তখন হয়তো সরকারের নিষেধাজ্ঞা ছিলো৤ কিন্তু পরব‍‍র্তীতে তো গণমাধ্যমের দায়িত্ব ছিল৤ এমনকি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ব‍‍র্ষপূর্তিতে এক দুইটি বাদে গণমাধ্যমে তারেক রহমানের ভূমিকা, তারেক রহমানের বক্তব্যগুলোর একটি ফটো বা ভিডিও অংশ প‍‍র্যন্ত জাতিকে মনে করিয়ে দেয়নি৤ ফিরে দেখা জুলাই গণ অভ্যুত্থান শিরোনামে কতো নিউজ, অনুষ্ঠান হয়েছে গণমাধ্যমে কিন্তু কয়টি গণমাধ্যম নিরপেক্ষভাবে ও বিবেকের স্বাধীনতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন৤
তারেক রহমান নিজে বলছিলেন, ব‍‍র্তমানে আয়নাঘর নামে পরিচিত বন্দিশালায় ছোটভাই আরাফাত রহমান কোকোসহ ১/১১ সরকারের সময় তাঁকে ও ছোটভাইকে নির্যাতন করা হয়েছিল৤ প্রধান উপদেষ্টা সেই বন্দিশালা পরিদ‍‍র্শন করেছেন৤ তারেক রহমান নিজে এক অনুষ্ঠানে সেই হৃদয়বিদারক ঘটনা ব‍‍র্ণনা করেছেন৤ কিন্তু গণমাধ্যমে জায়গা হয়নি৤ এমন বহু ঘটনা আছে যা তারেক রহমান ও বিএনপিকে ইতিবাচকভাবে জাতির সামনে তুলে ধরতে পারতো, কিন্তু গণমাধ্যমের বেশিরভাগ সেই খবর এড়িয়ে গেছে৤
তবে সৌভাগ্য যে এমন সময় মতবিনিময় আয়োজন করা হয়েছে , তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাব‍‍র্তন ও বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গণমাধ্যমে বিএনপির খবরের ছড়াছড়ি৤ কিন্তু গণমাধ্যমগুলো কি বিএনপি বা তারেক রহমানের প্রতি ভালোবাসা থেকে এখন এই কাভারেজ দিচ্ছে? নিশ্চয়ই না৤ কারণ এতো মানুষের উপস্থিতি বা অংশগহণের খবর এমনিতেই দেখাতে হবে৤ নয়তো সেই গণমাধ্যম পাঠক ও দ‍‍র্শক হারাবে৤ বানিজ্যিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে৤ যদি ভালোবাসা থেকে কাভারেজ দিতো, তাহলে অতীতের লাগাতার মিথ্যাচার, অপপ্রচার চলেছে, সেগুলোর আসল ঘটনা উদঘাটন করে অনুসন্ধানী প্রতিবেদ করার সুযোগ ছিল বা আছে৤ কিন্তু কয়টি গণমাধ্যম সেই সত্যটা সামনে তুলে ধরার জন্য চেষ্টা করছে?
উদ্বেগজনক হলো, ৫ আগস্ট পরব‍‍র্তীতে বিএনপির বিরুদ্ধে বহু সংবাদ প্রচার ও প্রকাশ করা হয়েছে, যেগুলো সংগবদ্ধ অপপ্রচার হিসেবে৤ একসাথে বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে একই ধরণের শিরোনাম ও সংবাদ প্রচার প্রকাশ করা হয়েছে৤
অনেক সংবাদ গণমাধ্যমে এসেছে, যেগুলো ভিন্ন ঘটনা হলেও বিএনপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে প্রচার ও প্রকাশ করা হয়েছে৤ আবার দেশের পক্ষে শক্ত অবস্থান নেয়ার ক্ষেত্রেও গণমাধ্যমের ভূমিকা রহস্যজনক দেখা গেছে৤ ৫ আগস্ট পরব‍‍র্তীতে সংখ্যালঘু ইস্যুতে ভারতের মিডিয়ার অপপ্রচার এবং দেশের ভিতরে পরিকল্পিত কিছু মিথ্যা ঘটনা সত্য বলে প্রচার করেছে বিদেশি মিডিয়া৤ দেশে সেই ঘটনাগুলো ইস্যু করে রাজপথে, রাজধানীতে লাগাতার আন্দোলন হয়েছে৤ সেই আন্দোলনকারীদের বক্তব্য এক তরফা প্রচার করেছে বেশিরভাগ গণমাধ্যম৤ ক্রস চেক করা, অনুসন্ধান করে আসল ঘটনা উদঘাটন করে সরেজমিন প্রতিবেদন না করে শুধুমাত্র বিক্ষোভকারীদের ব্ক্ত গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তখন আরো জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়েছে অন্তব‍‍র্তীকালীন সরকারকে।
তারেক রহমানের সাথে মতবিনিময়ে যদি সব সম্পাদক উপস্থিত থাকেন, তাহলে ২০০৭ সালের আগে ও পরে বিএনপি ও তারেক রহমানকে নিয়ে যে ধরণের মিথ্যা খবর পত্রিকাগুলোতে ছাপানো হয়েছে, সেজন্য আজকে কি তারাঁ দু:খ প্রকাশ করবেন? ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম ২০১৬ সালে এটিএন নিউজের টকশোতে ভুল স্বীকার করেছিলেন। বলেছিলেন, “একমাত্র নুরুল কবিরের নিউএজ পত্রিকা ছাড়া সবাই সেই সময় মিথ্যা খবর ছাপিয়েছে। তখন ডিজিএফআইয়ের দেয়া নিউজ যাচাই বাছাই ছাড়া ছাপানো আমার ভুল হয়েছে। আমি অকোপটে স্বীকার করছি যে, আমি ভুল করেছি।”
অন্য সকলে কি মাহফুজ আনামের মতো ভুল স্বীকার করেছিলেন? আজকে কি করবেন? ভুল স্বীকার করলে হয়তো মহত্বের পরিচয় দেয়া হয়, শুনে এসেছি৤ কিন্তু আপনাদের সেই ভুলের কারণে শুধু তারেক রহমানকে নয়, বিএনপিকে শুধু নয়, এই বাংলাদেশকে খেসারত দিতে হচ্ছে আজও।
বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য পরিবেশন বা মিথ্যা খবর এখনো হচ্ছে বহু গণমাধ্যমে। তবে আগের চেয়ে এখনকার মিথ্যা খবরের ধরণ আরো উদ্বেগজনক! বহু গণমাধ্যম সংঘবদ্ধভাবে এই অপপ্রচার নীতি বাস্তবায়ন করছে নয়া কৌশলে। তাহলে এখনকার এই ইচ্ছাকৃত ভুলের জন্য ক‍‍র্তাদের ভুল স্বীকারের বাক্য শুনতে হলে, কতো বছর অপেক্ষা করতে হবে? কবে সকলের বিবেক স্বাধীন হবে?
লেখক: মিরাজ হোসেন গাজী, টেলিভিশন সাংবাদিক ও ফ্যাক্টচেক অ্যাক্টিভিস্ট৤
ghmeraj@yahoo.com